বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস গ্রুপ ইনকরপোরেটেডের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর দ্য বিজনেসলাইন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলো এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প রুটের দিকে ঝুঁকছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের চিত্রে একটি স্থায়ী পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক ইউলিয়া ঝেস্টকোভা গ্রিগসবির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে বর্তমানের চেয়ে দৈনিক আরো ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল সরবরাহ বাড়াতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মাসের শেষ নাগাদ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ বাড়ানোর প্রক্রিয়াটি শেষ হতে পারে। অন্যদিকে অক্টোবরের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক জ্বালানি তেল উত্তোলন পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে সংকীর্ণ প্রণালিটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য পরিবাহিত হতো।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ শেষ করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালীন তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষই এ জলপথে দ্বিপক্ষীয় অবরোধ আরোপ করেছিল। ফলে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ রুট দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ সংকটের কারণে শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হুহু করে বাড়লেও পরবর্তী সময়ে তা আবার কমে আসে।
যুদ্ধ চলাকালীন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইরাক এ সংকীর্ণ নৌপথ এড়িয়ে তেল রফতানির জন্য বিকল্প অবকাঠামোর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। এ কৌশলগত পদক্ষেপের কারণে যুদ্ধ সত্ত্বেও তারা বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে পেরেছিল। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরামকো তাদের একটি পাইপলাইনের ব্যবহার বাড়িয়ে দেয়, যা দিয়ে সরাসরি লোহিত সাগর উপকূলে তেল পাঠানো যায়। অন্যদিকে ইউএই হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত ফুজাইরাহ বন্দরের পাইপলাইন ব্যবহার শুরু করে এবং ইরাক তাদের তেল পাঠায় তুরস্কের জেইহান বন্দরে।
বর্তমানে এ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প পথ খোঁজার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। ইউএই এরই মধ্যে এ জলপথের ওপর থেকে তাদের নির্ভরতা পুরোপুরি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে তারা ফুজাইরাহসহ ওমান উপসাগর তীরের বন্দরগুলোর সম্প্রসারণ করছে। পাশাপাশি কুয়েতও জ্বালানি তেল রফতানির জন্য সৌদি আরব ও আমিরাতের পাইপলাইন নেটওয়ার্ক ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।